Sunny Bulls Academy
Table of Contents
Toggle1. What is Stock Market? স্টক মার্কেট কী?
- বর্তমান সময়ে অর্থ উপার্জনের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হলো স্টক মার্কেট (Stock Market)। কিন্তু অনেকেই মনে করেন এটি শুধুমাত্র ধনীদের জন্য অথবা এটি একটি জুয়ার মতো ব্যবস্থা। বাস্তবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
- স্টক মার্কেট হলো এমন একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক বাজার যেখানে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় করা হয়।
- আপনি যখন কোনো কোম্পানির শেয়ার কিনছেন, তখন সেই কোম্পানির একটি ছোট অংশের মালিক হয়ে যাচ্ছেন।
- উদাহরণস্বরূপ—
- ধরুন একটি কোম্পানির মোট ১ কোটি শেয়ার রয়েছে। আপনি যদি ১০০টি শেয়ার কিনেন, তাহলে আপনি সেই কোম্পানির ক্ষুদ্র অংশীদার (Shareholder) হয়ে যাবেন।
- সহজ ভাষায় স্টক মার্কেট
- ধরুন আপনার একটি ব্যবসা রয়েছে।
- ব্যবসা বড় করার জন্য আপনার ১০ কোটি টাকার প্রয়োজন।
- আপনি ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন, ব্যবসার কিছু অংশ সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করবেন।
- আপনি কোম্পানির মালিকানাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করলেন, যাকে বলা হয় Share (শেয়ার)।
- এই শেয়ারগুলো সাধারণ মানুষ কিনতে পারে।
- এভাবেই একটি কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত (Listed) হয়।
১. শেয়ার (Share): কোনো কোম্পানির মোট মূলধনের ছোট ছোট একককে শেয়ার বলে। উদাহরণস্বরূপ, একটি কোম্পানির মোট ১,০০,০০০ শেয়ার থাকলে, আপনি যদি ১টি শেয়ার কেনেন, তবে আপনি সেই কোম্পানির ১টি শেয়ারের মালিক。
২. স্টক এক্সচেঞ্জ (Stock Exchange): স্টক মার্কেট সরাসরি কেনাবেচার জায়গা নয়, এর জন্য নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম থাকে যা ‘স্টক এক্সচেঞ্জ’ নামে পরিচিত。 যেমন- ভারতের ক্ষেত্রে ‘বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ’ (BSE) এবং ‘ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ’ (NSE)。
৩. মূল্য নির্ধারণ: বাজারে শেয়ারের দাম সম্পূর্ণভাবে তার চাহিদা (Demand) এবং জোগানের (Supply) ওপর নির্ভর করে。 কোম্পানির লাভ বাড়লে বা চাহিদা বাড়লে শেয়ারের দাম বাড়ে এবং কোম্পানি লোকসান করলে দাম কমে যায়。
৪. লাভের উপায়: শেয়ার মার্কেট থেকে সাধারণত দুইভাবে লাভ করা যায়—ক) শেয়ারের দাম বাড়লে তা বেশি দামে বিক্রি করে (Capital Appreciation), এবং খ) কোম্পানি প্রতি বছর তাদের লাভের কিছু অংশ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বন্টন করলে (Dividend)
2. Primary Market vs Secondary Market
প্রাইমারি মার্কেট (প্রাথমিক বাজার) হলো সেই জায়গা যেখানে কোম্পানিগুলো প্রথমবার নতুন শেয়ার ছেড়ে জনগণের কাছ থেকে পুঁজি সংগ্রহ করে (যেমন: IPO) সরাসরি কোম্পানি থেকে কেনা হয়।। অন্যদিকে, সেকেন্ডারি মার্কেট (মাধ্যমিক বাজার) হলো সাধারণ স্টক মার্কেট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের মধ্যে আগে থেকে ইস্যু করা শেয়ার কেনাবেচা করেন। অন্যান্য বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কেনা হয়।
3. IPO (Initial Public Offering)
আইপিও (IPO)-এর পুরো নাম ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (Initial Public Offering)। বাংলায় একে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বলা হয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো বেসরকারি (Private) কোম্পানি প্রথমবার সাধারণ মানুষের কাছে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করে এবং শেয়ার বাজারে নিজেদের তালিকাভুক্ত (List) করে।
কোম্পানিগুলো সাধারণত তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধ বা নতুন প্রজেক্টে বিনিয়োগ করার জন্য পাবলিকের কাছ থেকে টাকা তোলার উদ্দেশ্যে আইপিও ছেড়ে থাকে।
আইপিও–এর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- বিনিয়োগ করার সুযোগ: আইপিও-এর মাধ্যমে সাধারণ খুচরা বিনিয়োগকারীরা (Retail Investors) খুব কম দামে একটি কোম্পানির প্রাথমিক শেয়ার কেনার সুযোগ পান।
- লিস্টিং গেইন (Listing Gain): অনেক সময় আইপিও শেয়ারগুলো যখন প্রথমবার শেয়ার বাজারে ট্রেড শুরু হয়, তখন তার দাম অনেক বেড়ে যায়। একে ‘লিস্টিং গেইন’ বলা হয় যা বিনিয়োগকারীদের জন্য লাভজনক হতে পারে। Listing Gain – TYPE IN GOOLE IPO NAME – GMP- TODAY AND ENTER
- ঝুঁকি: শেয়ার বাজার সবসময়ই ওঠানামার মধ্য দিয়ে যায়। কোম্পানির ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্স খারাপ হলে আইপিও বিনিয়োগেও লোকসান হওয়ার আশঙ্কা থাকে
যেকোনো আইপিওতে টাকা লাগানোর আগে আপনি কিভাবে বুঝবেন আপনার এই আইপিও তে টাকা লাগালে লাভ হবে না লস হবে
যেকোনো আইপিওতে টাকা লাগানোর আগে আপনি কিভাবে বুঝবেন আপনার এই আইপিও তে টাকা লাগালে লাভ হবে না লস হবে ?
তার জন্য প্রথমে আপনাকে সেই আইপিওটার নাম ক্রোম ব্রাউজারে গিয়ে টাইপ করতে হবে একটা স্পেস দিয়ে লিখতে হবে IPO আরেকটি স্পেস দিয়ে লিখতে হবে GMP এবার সার্চ অপশনে ক্লিক করে সার্চ করতে হবে , দেখবে অনেকগুলি ওয়েবসাইট খুলে গেছে তার মধ্যে একটি ওয়েবসাইটের নাম Chittorgarh এই ওয়েবসাইটের উপর ক্লিক করতে হবে ওয়েবসাইটটি খুলে যাওয়ার পর একটু নিচের দিকে এলে দেখতে পাবে লেখা আছে GMP এর উপরে ক্লিক করতে হবে আবার একটি নতুন পেজ খুলে যাবে একটু নিচের দিকে এলে দেখতে পাবেন একটা চাট বোর্ড খুলে গেছে ওই চ্যাট বোর্ডের মধ্যে একটি অপশন থাকবে EST: Listing Price (CAP PRICE + GMP) এর নিচে দেখতে পাবে পার্সেন্টেজ দেওয়া আছে অর্থাৎ আপনি যদি এই আইপিওতে ইনভেস্টমেন্ট করেন আপনি কত পারসেন্টেন্স Profit পেতে পারেন যদি ১৫ পার্সেন্টে বেশি থাকে তবে ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানিং চাইলে করতে পারেন ইনভেস্টমেন্ট করার আগে আপনি নিজে থেকে একবার রির্সাচ করে নেবেন করে নেবেন তবে ইনভেস্টমেন্ট করবেন
4.Stock Market এ FPO কী? (Follow-on Public Offer)
FPO (Follow-on Public Offer) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে স্টক এক্সচেঞ্জে ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত (Listed) একটি কোম্পানি নতুন করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে অতিরিক্ত শেয়ার ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করে।
সহজ ভাষায়,
IPO-এর মাধ্যমে কোম্পানি প্রথমবার শেয়ার বাজারে আসে, আর FPO-এর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর আবার নতুন শেয়ার বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করে।
একটি সহজ উদাহরণ
ধরুন, ABC Ltd. কয়েক বছর আগে IPO-এর মাধ্যমে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
এখন কোম্পানির প্রয়োজন—
- নতুন কারখানা নির্মাণ
- ব্যবসা সম্প্রসারণ
- ঋণ পরিশোধ
- নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ
তখন কোম্পানি নতুন করে শেয়ার ইস্যু করবে। একে বলা হয় FPO।
FPO কেন আনা হয়?
কোম্পানি বিভিন্ন কারণে FPO নিয়ে আসে, যেমন—
১. ব্যবসা সম্প্রসারণ
নতুন প্রকল্প, কারখানা বা অফিস স্থাপন করতে।
২. ঋণ কমানো
ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করে আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে।
৩. নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ
গবেষণা, উন্নয়ন (R&D) এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য।
৪. অধিগ্রহণ (Acquisition)
অন্য কোনো কোম্পানি কিনতে।
৫. কার্যকরী মূলধন (Working Capital)
দৈনন্দিন ব্যবসার জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে।
FPO-এর সুবিধা
কোম্পানির জন্য
- সহজে মূলধন সংগ্রহ করা যায়।
- ঋণের ওপর নির্ভরতা কমে।
- ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করে।
- আর্থিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
বিনিয়োগকারীদের জন্য
- অনেক সময় বাজার মূল্যের তুলনায় কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ।
- ভালো কোম্পানিতে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ।
দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্নের সম্ভাবনা।
5.Stock Market এর পার্টিসিপেন্টস (Market Participants) কারা?
মার্কেট পার্টিসিপেন্টস (Market Participants) বলতে সেই সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাকে বোঝায় যারা স্টক মার্কেটে শেয়ার, বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, ডেরিভেটিভসসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ কেনাবেচা বা বিনিয়োগ করে। এদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই স্টক মার্কেট সচল, স্বচ্ছ এবং কার্যকর থাকে।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, যারা স্টক মার্কেটে কোনো না কোনোভাবে অংশগ্রহণ করে, তারাই মার্কেট পার্টিসিপেন্টস।
স্টক মার্কেটের প্রধান মার্কেট পার্টিসিপেন্টস
১. রিটেইল ইনভেস্টর (Retail Investors)
রিটেইল ইনভেস্টর হলেন সাধারণ ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী, যারা নিজেদের অর্থ দিয়ে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেন।
উদাহরণ:
- চাকরিজীবী
- ব্যবসায়ী
- ছাত্র-ছাত্রী
- গৃহিণী
- অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি
উদ্দেশ্য:
- দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ বৃদ্ধি
- ডিভিডেন্ড আয়
- ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়
২. ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর (Institutional Investors)
এরা বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যারা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে।
উদাহরণ:
- মিউচুয়াল ফান্ড
- ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি
- পেনশন ফান্ড
- ব্যাংক
- অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (AMC)
বিশেষত্ব:
- বড় মূলধন নিয়ে বিনিয়োগ করে।
- তাদের কেনাবেচার কারণে শেয়ারের দামে বড় প্রভাব পড়ে।
৩. ট্রেডার (Traders)
ট্রেডাররা স্বল্প সময়ের জন্য শেয়ার কেনাবেচা করে লাভ করার চেষ্টা করেন।
ট্রেডারের ধরন:
- স্ক্যাল্পার (Scalper)
- ইন্ট্রাডে ট্রেডার (Intraday Trader)
- সুইং ট্রেডার (Swing Trader)
- পজিশনাল ট্রেডার (Positional Trader)
৪. ব্রোকার (Brokers)
ব্রোকার হলেন বিনিয়োগকারী এবং স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে সংযোগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।
ব্রোকারের মাধ্যমেই আপনি শেয়ার কিনতে বা বিক্রি করতে পারেন।
ভারতের জনপ্রিয় ব্রোকার:
- Zerodha
- Groww
- Angel One
- Upstox
- ICICI Direct
৫. মার্কেট মেকার (Market Makers)
মার্কেট মেকার এমন প্রতিষ্ঠান, যারা সবসময় কোনো শেয়ারের ক্রয় (Buy) এবং বিক্রয় (Sell) মূল্য প্রদান করে বাজারে তারল্য (Liquidity) বজায় রাখে।
তাদের কাজ:
- বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা নিশ্চিত করা।
- বিড-আস্ক স্প্রেড কমানো।
- লেনদেন সহজ করা।
৬. বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী (Foreign Institutional Investors – FIIs)
FIIs হল বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যারা ভারতীয় শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে।
উদাহরণ:
- বিদেশি মিউচুয়াল ফান্ড
- আন্তর্জাতিক ব্যাংক
- গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি
- বিদেশি পেনশন ফান্ড
প্রভাব:
- FIIs বেশি কিনলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
- বেশি বিক্রি করলে বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে।
৭. দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী (Domestic Institutional Investors – DIIs)
DIIs হল ভারতের নিজস্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যারা দেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে।
উদাহরণ:
- LIC
- ভারতীয় মিউচুয়াল ফান্ড
- ভারতীয় ব্যাংক
- পেনশন ফান্ড
৮. তালিকাভুক্ত কোম্পানি (Listed Companies)
যেসব কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত থাকে, তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের জন্য শেয়ার ইস্যু করে।
তারা মূলধন সংগ্রহ করে:
- IPO (Initial Public Offering)
- FPO (Follow-on Public Offering)
- OFS (Offer for Sale)
৯. স্টক এক্সচেঞ্জ (Stock Exchange)
স্টক এক্সচেঞ্জ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে শেয়ার কেনাবেচা হয়।
ভারতের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ:
- NSE (National Stock Exchange)
- BSE (Bombay Stock Exchange)
কাজ:
- নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করা।
- বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
- ক্রেতা ও বিক্রেতাকে যুক্ত করা।
১০. নিয়ন্ত্রক সংস্থা (Market Regulator)
ভারতে স্টক মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করে Securities and Exchange Board of India (SEBI)।
SEBI-এর প্রধান কাজ:
- বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা।
- স্টক মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করা।
- ইনসাইডার ট্রেডিং প্রতিরোধ করা।
- প্রতারণা ও কারচুপি রোধ করা।
- বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
6. রেগুলেটর (SEBI) কী? | স্টক মার্কেটে SEBI-এর ভূমিকা
স্টক মার্কেটে রেগুলেটর (Regulator) বলতে এমন একটি সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বোঝায়, যা শেয়ার বাজারকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং নিরাপদভাবে পরিচালিত হওয়া নিশ্চিত করে। ভারতের শেয়ার বাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো Securities and Exchange Board of India (SEBI)।
SEBI-এর পূর্ণরূপ হলো Securities and Exchange Board of India। এটি ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯২ সালে ভারতের সংসদ কর্তৃক আইনি ক্ষমতা (Statutory Status) লাভ করে।
SEBI-এর প্রধান উদ্দেশ্য
SEBI-এর মূল লক্ষ্য হলো—
- বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা।
- শেয়ার বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
- বাজারে প্রতারণা ও কারচুপি বন্ধ করা।
- স্টক মার্কেটকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা।
- কোম্পানি ও বাজারের অংশগ্রহণকারীদের নিয়ন্ত্রণ করা।
SEBI-এর প্রধান কাজ
১. বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা
SEBI নিশ্চিত করে যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতারণার শিকার না হন।
উদাহরণ:
- ভুয়া বিনিয়োগ স্কিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
- কোম্পানিকে সঠিক তথ্য প্রকাশে বাধ্য করা।
- বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের নিষ্পত্তি করা।
২. স্টক মার্কেট নিয়ন্ত্রণ
SEBI ভারতের শেয়ার বাজারের সমস্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে।
তারা নিয়ন্ত্রণ করে:
- স্টক এক্সচেঞ্জ
- ব্রোকার
- মিউচুয়াল ফান্ড
- মার্চেন্ট ব্যাংকার
- পোর্টফোলিও ম্যানেজার
- ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি
৩. ইনসাইডার ট্রেডিং প্রতিরোধ
কোনো ব্যক্তি যদি কোম্পানির গোপন তথ্য ব্যবহার করে অবৈধভাবে শেয়ার কেনাবেচা করেন, তাকে Insider Trading বলা হয়।
SEBI এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
৪. বাজারে কারচুপি (Market Manipulation) রোধ
কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো বা কমানো, গুজব ছড়ানো কিংবা ভুয়া লেনদেনের মাধ্যমে বাজারকে প্রভাবিত করা আইনত দণ্ডনীয়।
SEBI এসব কার্যকলাপ শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
৫. IPO, FPO ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ন্ত্রণ
কোনো কোম্পানি যখন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য শেয়ার ইস্যু করে, তখন SEBI নিশ্চিত করে যে বিনিয়োগকারীদের কাছে সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
৬. ব্রোকারদের নিবন্ধন ও তদারকি
SEBI শুধুমাত্র অনুমোদিত (Registered) ব্রোকারদের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার অনুমতি দেয়।
এর ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদে ট্রেড করতে পারেন।
৭. বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি
SEBI বিভিন্ন শিক্ষা কর্মসূচি, সেমিনার, ও অনলাইন প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগ সম্পর্কে সচেতন করে।
SEBI-এর ক্ষমতা
SEBI প্রয়োজনে—
- তদন্ত করতে পারে।
- জরিমানা আরোপ করতে পারে।
- ব্রোকার বা কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করতে পারে।
- অবৈধ লেনদেন বন্ধ করতে পারে।
- বাজারে নিষেধাজ্ঞা (Ban) জারি করতে পারে।
SEBI কেন গুরুত্বপূর্ণ?
SEBI না থাকলে শেয়ার বাজারে প্রতারণা, কারচুপি এবং বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেত।
SEBI-এর কারণে—
- বাজারে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
- বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
- ন্যায্য লেনদেন নিশ্চিত হয়।
- কোম্পানিগুলোকে নিয়ম মেনে চলতে হয়।
বাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
7. ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট (Demat Account) ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট (Trading Account) কী?
স্টক মার্কেটে শেয়ার কেনাবেচা করার জন্য ডিম্যাট (Demat) অ্যাকাউন্ট এবং ট্রেডিং (Trading) অ্যাকাউন্ট—এই দুটি অ্যাকাউন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক নতুন বিনিয়োগকারী এই দুটি অ্যাকাউন্টকে একই মনে করেন, কিন্তু বাস্তবে এদের কাজ সম্পূর্ণ আলাদা।
সহজভাবে বলতে গেলে, ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট দিয়ে আপনি শেয়ার কেনাবেচা করেন, আর ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে সেই শেয়ার নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়।
ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট (Demat Account) কী?
Demat শব্দটি Dematerialization থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো কাগজের শেয়ার সার্টিফিকেটকে ইলেকট্রনিক (Digital) রূপে সংরক্ষণ করা।
আগে শেয়ারের মালিকানার প্রমাণ হিসেবে কাগজের সার্টিফিকেট দেওয়া হতো। বর্তমানে সব শেয়ার ইলেকট্রনিকভাবে ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে রাখা হয়।
সহজ ভাষায়, ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট হলো এমন একটি ডিজিটাল ভল্ট, যেখানে আপনার কেনা শেয়ার, ETF, বন্ড, সরকারি সিকিউরিটিজ এবং অন্যান্য সিকিউরিটিজ নিরাপদে সংরক্ষিত থাকে।
ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের প্রধান কাজ
- কেনা শেয়ার সংরক্ষণ করা।
- শেয়ার নিরাপদে রাখা।
- শেয়ার ট্রান্সফার সহজ করা।
- বোনাস শেয়ার ও রাইটস শেয়ার গ্রহণ করা।
- ডিভিডেন্ড ও কর্পোরেট অ্যাকশনের সুবিধা পাওয়া।
ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে কী কী রাখা যায়?
- ইকুইটি শেয়ার (Equity Shares)
- ETF (Exchange Traded Funds)
- মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট
- বন্ড
- ডিবেঞ্চার
- সরকারি সিকিউরিটিজ (Government Securities)
- Sovereign Gold Bonds (SGB)
ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট (Trading Account) কী?
Trading Account হলো এমন একটি অ্যাকাউন্ট, যার মাধ্যমে আপনি স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার, ETF এবং অন্যান্য সিকিউরিটিজ কিনতে ও বিক্রি করতে পারেন।
অর্থাৎ, ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট হলো শেয়ার বাজারে লেনদেন করার মাধ্যম।
ট্রেডিং অ্যাকাউন্টের প্রধান কাজ
- শেয়ার কেনা।
- শেয়ার বিক্রি করা।
- Buy ও Sell অর্ডার প্লেস করা।
- লাইভ মার্কেটে ট্রেড করা।
- IPO-তে আবেদন করার সুবিধা (অনেক ব্রোকারের মাধ্যমে)।
ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্টের মধ্যে পার্থক্য
|
বিষয় |
ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট |
ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট |
|
মূল কাজ |
শেয়ার সংরক্ষণ করা |
শেয়ার কেনাবেচা করা |
|
ব্যবহার |
শেয়ার রাখা |
Buy/Sell অর্ডার দেওয়া |
|
কাজের ধরন |
ডিজিটাল স্টোরেজ |
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম |
|
কখন ব্যবহার হয় |
শেয়ার কেনার পরে |
শেয়ার কেনা বা বিক্রির সময় |
ডিম্যাট ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট কীভাবে একসাথে কাজ করে?
ধরুন, আপনি একটি কোম্পানির ১০০টি শেয়ার কিনতে চান।
ধাপ ১: আপনি ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে লগইন করে Buy Order দেন।
ধাপ ২: অর্ডার সম্পন্ন হলে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হয়।
ধাপ ৩: নির্ধারিত সেটেলমেন্টের পর শেয়ারগুলো আপনার ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
ধাপ ৪: পরে আপনি শেয়ার বিক্রি করতে চাইলে ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট থেকে Sell Order দেন।
ধাপ ৫: বিক্রির পর শেয়ার ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হয় এবং বিক্রির অর্থ আপনার ট্রেডিং/ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
8. ডিপোজিটরি (Depository) কী?
ভারতে ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের শেয়ার দুটি প্রধান ডিপোজিটরিতে সংরক্ষিত থাকে—
- National Securities Depository Limited (NSDL)
- Central Depository Services Limited (CDSL)
এরা বিনিয়োগকারীদের সিকিউরিটিজ নিরাপদে ইলেকট্রনিকভাবে সংরক্ষণ করে।
9. Stock Market এ ব্রোকারের প্রকারভেদ (Types of Brokers in Stock Market)
স্টক মার্কেটে শেয়ার কেনাবেচা করার জন্য একজন বিনিয়োগকারীর একটি ব্রোকার (Broker)-এর প্রয়োজন হয়। ব্রোকার হল এমন একটি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি, যিনি বিনিয়োগকারী এবং স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেন। ভারতে মূলত দুই ধরনের ব্রোকার রয়েছে— ফুল-সার্ভিস ব্রোকার (Full-Service Broker) এবং ডিসকাউন্ট ব্রোকার (Discount Broker)।
১. ফুল-সার্ভিস ব্রোকার (Full-Service Broker)
ফুল-সার্ভিস ব্রোকার শুধু শেয়ার কেনাবেচার সুবিধাই দেয় না, পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আর্থিক পরিষেবাও প্রদান করে।
তারা যে পরিষেবাগুলো দেয়:
- শেয়ার কেনাবেচা
- বিনিয়োগ পরামর্শ
- গবেষণা (Research Reports)
- পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট
- IPO-তে আবেদন
- মিউচুয়াল ফান্ড ও বীমা পরিষেবা
- ব্যক্তিগত রিলেশনশিপ ম্যানেজার
সুবিধা:
- নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য উপযুক্ত।
- বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়া যায়।
- বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবা একসাথে পাওয়া যায়।
অসুবিধা:
- ব্রোকারেজ চার্জ তুলনামূলক বেশি।
২. ডিসকাউন্ট ব্রোকার (Discount Broker)
ডিসকাউন্ট ব্রোকার মূলত কম খরচে শেয়ার কেনাবেচার সুবিধা প্রদান করে। তারা সাধারণত বিনিয়োগ পরামর্শ দেয় না।
তারা যে পরিষেবাগুলো দেয়:
- অনলাইন ট্রেডিং
- ডিম্যাট ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট
- দ্রুত অর্ডার এক্সিকিউশন
- কম ব্রোকারেজ চার্জ
সুবিধা:
- খুব কম খরচে ট্রেড করা যায়।
- সক্রিয় ট্রেডারদের জন্য উপযুক্ত।
- সহজ ও দ্রুত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।
অসুবিধা:
- ব্যক্তিগত বিনিয়োগ পরামর্শ সাধারণত পাওয়া যায় না।
ফুল-সার্ভিস ব্রোকার বনাম ডিসকাউন্ট ব্রোকার
|
বিষয় |
ফুল-সার্ভিস ব্রোকার |
ডিসকাউন্ট ব্রোকার |
|
ব্রোকারেজ |
বেশি |
কম |
|
বিনিয়োগ পরামর্শ |
✔️ আছে |
❌ সাধারণত নেই |
|
গবেষণা রিপোর্ট |
✔️ আছে |
সীমিত বা নেই |
|
কাস্টমার সাপোর্ট |
ব্যক্তিগত সহায়তা |
মূলত অনলাইন |
|
উপযুক্ত |
নতুন বিনিয়োগকারী |
অভিজ্ঞ ট্রেডার |
10.বোনাস শেয়ার (Bonus Shares) কী?
বোনাস শেয়ার (Bonus Shares) হলো এমন অতিরিক্ত শেয়ার, যা একটি কোম্পানি তার বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করে। এই শেয়ার পেতে বিনিয়োগকারীকে কোনো অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় না।
কোম্পানি যখন বছরের পর বছর ভালো লাভ করে এবং সেই লাভের একটি অংশ নগদ লভ্যাংশ (Dividend) হিসেবে না দিয়ে কোম্পানির রিজার্ভ (Reserves) থেকে শেয়ারের আকারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ করে, তখন তাকে বোনাস শেয়ার বলা হয়।
বোনাস শেয়ার কেন দেওয়া হয়?
কোম্পানিগুলো সাধারণত নিচের কারণগুলোতে বোনাস শেয়ার ইস্যু করে—
- কোম্পানির সঞ্চিত রিজার্ভ (Accumulated Reserves) ব্যবহার করার জন্য।
- বাজারে শেয়ারের লিকুইডিটি (Liquidity) বাড়ানোর জন্য।
- শেয়ারের দাম তুলনামূলকভাবে কমিয়ে ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজলভ্য করার জন্য।
- দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের পুরস্কৃত করার জন্য।
- কোম্পানির আর্থিক শক্তির প্রতি বাজারে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার জন্য।
বোনাস শেয়ার কীভাবে কাজ করে?
ধরুন, আপনার কাছে একটি কোম্পানির ১০০টি শেয়ার রয়েছে।
কোম্পানি যদি ১:১ বোনাস ঘোষণা করে, তাহলে আপনি আরও ১০০টি শেয়ার বিনামূল্যে পাবেন।
ফলে আপনার মোট শেয়ার হবে ২০০টি।
আবার যদি কোম্পানি ২:১ বোনাস দেয়, তাহলে প্রতি ১টি শেয়ারের বিপরীতে ২টি নতুন শেয়ার পাবেন। অর্থাৎ ১০০টি শেয়ারের জন্য অতিরিক্ত ২০০টি শেয়ার পাবেন এবং মোট শেয়ার হবে ৩০০টি।
বোনাস শেয়ারের পর শেয়ারের দাম কী হয়?
বোনাস শেয়ার দেওয়ার পরে কোম্পানির মোট বাজারমূল্য (Market Capitalization) সাধারণত একই থাকে। তাই প্রতি শেয়ারের দাম অনুপাতে কমে যায়।
উদাহরণ:
- বোনাসের আগে শেয়ারের দাম = ₹১,০০০
- বোনাস রেশিও = ১:১
- বোনাসের পরে আনুমানিক দাম = ₹৫০০
অর্থাৎ শেয়ারের সংখ্যা দ্বিগুণ হলেও মোট বিনিয়োগের মূল্য একই থাকে (বাজারের ওঠানামা বাদ দিলে)।
বোনাস শেয়ারের সুবিধা
- অতিরিক্ত টাকা ছাড়াই নতুন শেয়ার পাওয়া যায়।
- দীর্ঘমেয়াদে সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
- বাজারে শেয়ারের লেনদেন (Liquidity) বাড়ে।
- ভবিষ্যতে বেশি শেয়ারের উপর লভ্যাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
11.স্টক স্প্লিট (Stock Split) কী?
স্টক স্প্লিট (Stock Split) হলো এমন একটি কর্পোরেট অ্যাকশন, যেখানে একটি কোম্পানি তার বিদ্যমান প্রতিটি শেয়ারকে একাধিক নতুন শেয়ারে ভাগ করে দেয়। এর ফলে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে থাকা মোট শেয়ারের সংখ্যা বেড়ে যায়, কিন্তু তাদের মোট বিনিয়োগের মূল্য (Investment Value) একই থাকে।
সহজভাবে বলতে গেলে, স্টক স্প্লিটে শেয়ারের সংখ্যা বাড়ে এবং প্রতি শেয়ারের দাম অনুপাতে কমে যায়।
স্টক স্প্লিট কেন করা হয়?
কোম্পানিগুলো সাধারণত নিচের কারণগুলোর জন্য স্টক স্প্লিট করে—
- শেয়ারের দাম অনেক বেশি হয়ে গেলে ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য কেনা সহজ করতে।
- বাজারে শেয়ারের লিকুইডিটি (Liquidity) বাড়াতে।
- শেয়ারের লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে।
- নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে।
- শেয়ারকে আরও সহজলভ্য (Affordable) করে তুলতে।
স্টক স্প্লিট কীভাবে কাজ করে?
ধরুন, আপনার কাছে একটি কোম্পানির ১০০টি শেয়ার রয়েছে এবং প্রতিটি শেয়ারের দাম ₹১,০০০।
আপনার মোট বিনিয়োগের মূল্য:
১০০ × ₹১,০০০ = ₹১,০০,০০০
এখন কোম্পানি ২:১ স্টক স্প্লিট ঘোষণা করল।
এর অর্থ, প্রতিটি ১টি শেয়ার ২টি শেয়ারে ভাগ হবে।
স্প্লিটের পরে—
- মোট শেয়ার = ২০০টি
- প্রতি শেয়ারের আনুমানিক দাম = ₹৫০০
মোট বিনিয়োগের মূল্য:
২০০ × ₹৫০০ = ₹১,০০,০০০
অর্থাৎ শেয়ারের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু মোট সম্পদের মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে (বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা বাদ দিলে)।
12.বাইব্যাক (Buyback) কী?
বাইব্যাক (Buyback) বা Share Buyback হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি কোম্পানি বাজার থেকে বা নির্দিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে নিজের ইস্যু করা শেয়ার পুনরায় কিনে নেয়।
অর্থাৎ, কোম্পানি নিজেই তার শেয়ারের ক্রেতা হয়ে যায়। এর ফলে বাজারে প্রচলিত (Outstanding) শেয়ারের সংখ্যা কমে যায়।
কোম্পানি কেন Buyback করে?
কোম্পানিগুলো সাধারণত নিচের কারণগুলোতে Buyback ঘোষণা করে—
- অতিরিক্ত নগদ অর্থ (Excess Cash) শেয়ারহোল্ডারদের কাছে ফেরত দিতে।
- প্রতি শেয়ারে আয় (Earnings Per Share বা EPS) বাড়াতে।
- বাজারে শেয়ারের দামকে সমর্থন দিতে।
- কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা (Positive Signal) দিতে।
- বাজারে প্রচলিত শেয়ারের সংখ্যা কমাতে।
- শেয়ারহোল্ডারদের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য (Shareholder Value) বাড়ানোর চেষ্টা করতে।
Buyback কীভাবে কাজ করে?
ধরুন, একটি কোম্পানির বাজারে মোট ১০ কোটি শেয়ার রয়েছে।
কোম্পানি ঘোষণা করল যে তারা ১ কোটি শেয়ার Buyback করবে।
Buyback সম্পন্ন হওয়ার পরে—
- মোট প্রচলিত শেয়ার = ৯ কোটি
- কোম্পানির মালিকানার অংশ (Ownership Percentage) অবশিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়।
- EPS বাড়তে পারে, কারণ একই লাভ এখন কম সংখ্যক শেয়ারের মধ্যে ভাগ হবে।
Buyback-এর উদাহরণ
ধরুন—
- আপনার কাছে ১০০টি শেয়ার আছে।
- কোম্পানি ₹১,২০০ দামে Buyback ঘোষণা করেছে।
- বর্তমান বাজারদাম ₹১,০৫০।
আপনি চাইলে আপনার কিছু বা সব শেয়ার কোম্পানির কাছে Buyback-এ জমা দিতে পারেন। যদি আপনার শেয়ার গ্রহণ (Accepted) হয়, তাহলে কোম্পানি Buyback মূল্যে সেই শেয়ার কিনে নেবে।
Buyback-এর সুবিধা
- বাজারদামের চেয়ে বেশি দামে শেয়ার বিক্রির সুযোগ মিলতে পারে।
- EPS বাড়তে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
- কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার ইতিবাচক বার্তা বাজারে যেতে পারে।
- অবশিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানার অংশ বাড়তে পারে।
Buyback-এর অসুবিধা
- সব শেয়ার Buyback-এ গ্রহণ নাও হতে পারে (Acceptance Ratio-এর ওপর নির্ভর করে)।
- Buyback-এর পরেও শেয়ারের দাম কমে যেতে পারে।
- কোম্পানি যদি অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে Buyback করে, তাহলে ভবিষ্যতে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।
- শুধুমাত্র Buyback দেখে কোনো কোম্পানিকে ভালো বিনিয়োগ বলা যায় না।
13. রাইটস ইস্যু (Rights Issue) কী?
রাইটস ইস্যু (Rights Issue) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি কোম্পানি তার বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের নির্দিষ্ট অনুপাতে (Ratio) নতুন শেয়ার কেনার অধিকার (Right) প্রদান করে। সাধারণত এই শেয়ারগুলো বাজারদামের তুলনায় কম দামে (Discount Price) অফার করা হয়।
অর্থাৎ, কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যু করার আগে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের অগ্রাধিকার দেয়।
Rights Issue কেন করা হয়?
কোম্পানিগুলো সাধারণত নিচের কারণগুলোতে Rights Issue আনে—
- নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য মূলধন সংগ্রহ করতে।
- ব্যবসা সম্প্রসারণ (Business Expansion) করতে।
- ঋণ (Debt) কমাতে।
- নতুন কারখানা, প্রযুক্তি বা যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ করতে।
- অন্য কোনো কোম্পানি অধিগ্রহণ (Acquisition) করতে।
- ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে শেয়ার মূলধনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে।
Rights Issue কীভাবে কাজ করে?
ধরুন, আপনার কাছে একটি কোম্পানির ১০০টি শেয়ার রয়েছে।
কোম্পানি ১:৫ Rights Issue ঘোষণা করল।
এর অর্থ হলো—
প্রতি ৫টি শেয়ারের বিপরীতে ১টি নতুন শেয়ার কেনার অধিকার পাবেন।
যদি Rights Issue-এর মূল্য ₹২০০ হয় এবং বাজারদাম ₹২৫০ হয়, তাহলে আপনি ₹২০০ দামে নতুন শেয়ার কিনতে পারবেন।
এক্ষেত্রে—
- আপনার বর্তমান শেয়ার = ১০০টি
- Rights অনুযায়ী নতুন শেয়ার কেনার সুযোগ = ২০টি
- মোট শেয়ার (কিনলে) = ১২০টি
Rights Issue-এর বৈশিষ্ট্য
- এটি শুধুমাত্র বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের জন্য।
- নতুন শেয়ার সাধারণত বাজারদামের তুলনায় কম দামে দেওয়া হয়।
- শেয়ার কেনা বাধ্যতামূলক নয়।
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হয়।
Rights Issue-এর সুবিধা
- বাজারদামের তুলনায় কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ।
- কোম্পানিতে নিজের মালিকানার অংশ বজায় রাখা যায়।
- কোম্পানির ভবিষ্যৎ বৃদ্ধিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ।
- অনেক ক্ষেত্রে Rights Entitlement বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করা যায়।
Rights Issue-এর অসুবিধা
- নতুন শেয়ার কিনতে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়।
- Rights ব্যবহার না করলে কোম্পানিতে আপনার মালিকানার শতাংশ (Ownership) কমে যেতে পারে।
- কোম্পানির ব্যবসা ভালো না হলে বিনিয়োগে ঝুঁকি থাকতে পারে।
- সব Rights Issue সফল হয় না।
Rights Issue-এর গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
- Record Date: কে Rights Issue পাওয়ার যোগ্য তা নির্ধারণের তারিখ।
- Ex-Rights Date: এই তারিখের পরে শেয়ার কিনলে সাধারণত ওই Rights Issue-এর অধিকার পাওয়া যায় না।
- Issue Opening Date: আবেদন শুরু হওয়ার তারিখ।
- Issue Closing Date: আবেদন করার শেষ তারিখ।
14. সার্কিট লিমিট (Circuit Limit) কী?
সার্কিট লিমিট (Circuit Limit) হলো স্টক এক্সচেঞ্জের নির্ধারিত একটি দৈনিক মূল্যসীমা (Daily Price Limit), যার বাইরে কোনো শেয়ারের দাম একটি ট্রেডিং দিনে বাড়তে বা কমতে পারে না।
এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো অতিরিক্ত মূল্য ওঠানামা (Excessive Volatility) নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা প্রদান করা।
Circuit Limit কেন প্রয়োজন?
যদি কোনো শেয়ারের দামে হঠাৎ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা পতন ঘটে, তাহলে বাজারে আতঙ্ক বা অতিরিক্ত জল্পনা-কল্পনা (Speculation) তৈরি হতে পারে।
সার্কিট লিমিটের মাধ্যমে—
- অস্বাভাবিক মূল্য ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
- বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হয়।
- বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়।
- বাজারে কারসাজি (Price Manipulation) কমানোর চেষ্টা করা হয়।
Upper Circuit কী?
Upper Circuit হলো একটি দিনের মধ্যে কোনো শেয়ারের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মূল্য।
যখন কোনো শেয়ার Upper Circuit-এ পৌঁছে যায়—
- ওই দামের ওপরে আর ট্রেড করা যায় না।
- সাধারণত শুধুমাত্র Buy Order থাকে।
- Seller কম থাকায় অনেক সময় শেয়ার কেনা কঠিন হয়ে যায়।
উদাহরণ
ধরুন—
- গতকালের ক্লোজিং দাম = ₹১০০
- Circuit Limit = ১০%
তাহলে—
- Upper Circuit = ₹১১০
শেয়ারের দাম ওই দিন ₹১১০-এর বেশি যেতে পারবে না।
Lower Circuit কী?
Lower Circuit হলো একটি দিনের মধ্যে কোনো শেয়ারের সর্বনিম্ন অনুমোদিত মূল্য।
যখন কোনো শেয়ার Lower Circuit-এ পৌঁছে যায়—
- ওই দামের নিচে আর ট্রেড করা যায় না।
- সাধারণত শুধুমাত্র Sell Order থাকে।
- ক্রেতা কম থাকায় অনেক সময় শেয়ার বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
উদাহরণ
- গতকালের ক্লোজিং দাম = ₹১০০
- Circuit Limit = ১০%
তাহলে—
- Lower Circuit = ₹৯০
শেয়ারের দাম ওই দিন ₹৯০-এর নিচে নামতে পারবে না।
15.T+1 Settlement কী?
T+1 Settlement হলো স্টক মার্কেটে শেয়ার কেনা বা বিক্রি করার পর পরবর্তী কার্যদিবসে (Next Trading Day) সেই লেনদেন সম্পূর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়া।
এখানে—
- T (Trade Day) = যেদিন শেয়ার কেনা বা বিক্রি করা হয়।
- +1 = তার পরের কার্যদিবস (Working Trading Day), যেদিন শেয়ার ও অর্থের চূড়ান্ত আদান-প্রদান (Settlement) সম্পন্ন হয়।
সহজভাবে বলতে গেলে, আজ শেয়ার কিনলে বা বিক্রি করলে, পরের কার্যদিবসে সেই লেনদেনের নিষ্পত্তি (Settlement) সম্পূর্ণ হয়।
Settlement কী?
Settlement হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে—
- ক্রেতার Demat Account-এ শেয়ার জমা হয়।
- বিক্রেতার ব্যাংক বা ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে বিক্রির অর্থ জমা হয়।
অর্থাৎ, শেয়ার এবং টাকার প্রকৃত মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকেই Settlement বলা হয়।
T+1 Settlement কীভাবে কাজ করে?
ধরুন, আপনি সোমবার একটি কোম্পানির ১০০টি শেয়ার কিনলেন।
Trade Day (T)
- দিন: সোমবার
- আপনি শেয়ার কিনলেন।
- অর্ডার এক্সিকিউট হলো।
T+1 Day
- দিন: মঙ্গলবার (যদি ট্রেডিং দিবস হয়)
- শেয়ার আপনার Demat Account-এ জমা হবে।
- বিক্রেতা তার অর্থ পাবেন।
অর্থাৎ, সোমবারের ট্রেডের Settlement মঙ্গলবার সম্পন্ন হবে।
যদি মাঝখানে শনিবার, রবিবার বা স্টক এক্সচেঞ্জের ছুটি থাকে, তাহলে পরবর্তী কার্যদিবসে Settlement হবে।
16. নিফটি ৫০ (Nifty 50) কী?
- নিফটি ৫০ (Nifty 50) হলো ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার বাজার সূচক (Stock Market Index)। এটি National Stock Exchange (NSE)-এ তালিকাভুক্ত ৫০টি বৃহৎ, আর্থিকভাবে শক্তিশালী এবং সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানির শেয়ারের পারফরম্যান্সকে একসঙ্গে প্রদর্শন করে।
- সহজ ভাষায়, নিফটি ৫০ হলো ভারতের শেয়ার বাজারের স্বাস্থ্যের একটি সূচক। যদি নিফটি ৫০ বাড়ে, তাহলে সাধারণভাবে ধরে নেওয়া হয় যে বড় বড় কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে এবং বাজার ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। আবার নিফটি ৫০ কমলে বোঝায় বাজারে দুর্বলতা বা বিক্রির চাপ রয়েছে।
কেন নিফটি ৫০ গুরুত্বপূর্ণ?
- বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা (Market Trend) বোঝা যায়।
- বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
- ভারতের অর্থনীতির বড় কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স এক নজরে জানা যায়।
- ট্রেডিং ও ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বেঞ্চমার্ক।
17.সেনসেক্স (Sensex) কী?
Sensex (Sensitive Index) হলো Bombay Stock Exchange (BSE)-এর প্রধান Stock Market Index। এটি BSE-তে তালিকাভুক্ত ৩০টি বৃহৎ, শক্তিশালী এবং আর্থিকভাবে স্থিতিশীল কোম্পানির শেয়ারের পারফরম্যান্স পরিমাপ করে।
সহজ ভাষায়:
Sensex দেখে বোঝা যায় ভারতের শেয়ার বাজারের বড় কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক অবস্থা কেমন।
- পূর্ণ নাম: Sensitive Index (SENSEX)
- স্টক এক্সচেঞ্জ: Bombay Stock Exchange (BSE)
- মোট কোম্পানি: ৩০টি
- শুরু: ১৯৮৬
- Base Year: 1978–79
- Base Value: 100
Sensex-এর ৩০টি কোম্পানির Free Float Market Capitalization অনুযায়ী Index-এর মান পরিবর্তিত হয়।
- বড় কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লে → Sensex বাড়ে।
- বড় কোম্পানির শেয়ারের দাম কমলে → Sensex কমে।
16.ব্যাংক নিফটি (Bank Nifty) কী?
Bank Nifty হলো National Stock Exchange (NSE)-এর একটি Sectoral Index, যা ভারতের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে বেশি লিকুইড ১২টি ব্যাংকের শেয়ারের পারফরম্যান্স পরিমাপ করে।
সহজ ভাষায়:
Bank Nifty দেখে বোঝা যায় ভারতের Banking Sector-এর শেয়ারগুলো কেমন পারফর্ম করছে।
মূল তথ্য
- পূর্ণ নাম: Nifty Bank Index (Bank Nifty)
- স্টক এক্সচেঞ্জ: National Stock Exchange (NSE)
- কোম্পানির সংখ্যা: ১২টি প্রধান ব্যাংক
- সূচকের ধরন: Sectoral Index
- সেক্টর: Banking
Bank Nifty কীভাবে কাজ করে?
Bank Nifty-এর মান নির্ধারিত হয় এর অন্তর্ভুক্ত ১২টি ব্যাংকের Free Float Market Capitalization অনুযায়ী।
- বড় ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়লে → Bank Nifty বাড়ে।
- বড় ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমলে → Bank Nifty কমে।
Bank Nifty-তে কী ধরনের ব্যাংক থাকে?
এখানে ভারতের শীর্ষ:
- Private Banks
- Public Sector Banks
অন্তর্ভুক্ত থাকে।
উদাহরণ হিসেবে:
- HDFC Bank
- ICICI Bank
- State Bank of India (SBI)
- Axis Bank
- Kotak Mahindra Bank
- IndusInd Bank
(সূচকের উপাদান সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।)
Bank Nifty বাড়লে কী বোঝায়?
📈 Banking Sector শক্তিশালী।
📈 বড় ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়ছে।
📈 বাজারে ইতিবাচক মনোভাব (Bullish Sentiment) থাকতে পারে।
Bank Nifty কমলে কী বোঝায়?
📉 Banking Sector দুর্বল।
📉 ব্যাংকের শেয়ারে Selling Pressure রয়েছে।
📉 বাজারে নেতিবাচক মনোভাব (Bearish Sentiment) থাকতে পারে।
19. ফিন নিফটি (Fin Nifty) কী?
Fin Nifty (Nifty Financial Services Index) হলো National Stock Exchange (NSE)-এর একটি Sectoral Index, যা ভারতের শীর্ষ ২০টি Financial Services কোম্পানির শেয়ারের পারফরম্যান্স পরিমাপ করে।
সহজ ভাষায়:
Fin Nifty দেখে বোঝা যায় ভারতের Financial Sector-এর বড় কোম্পানিগুলো কেমন পারফর্ম করছে।
মূল তথ্য
- পূর্ণ নাম: Nifty Financial Services Index (Fin Nifty)
- স্টক এক্সচেঞ্জ: National Stock Exchange (NSE)
- কোম্পানির সংখ্যা: ২০টি
- সূচকের ধরন: Sectoral Index
- সেক্টর: Financial Services
Fin Nifty-তে কী ধরনের কোম্পানি থাকে?
Fin Nifty-তে শুধুমাত্র ব্যাংক নয়, বিভিন্ন ধরনের Financial Services কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেমন—
- 🏦 Banks
- 🛡️ Insurance Companies
- 🏠 Housing Finance Companies
- 💳 NBFCs (Non-Banking Financial Companies)
- 📈 Financial Services Companies
Fin Nifty কীভাবে কাজ করে?
Fin Nifty-এর অন্তর্ভুক্ত ২০টি কোম্পানির Free Float Market Capitalization অনুযায়ী Index-এর মান পরিবর্তিত হয়।
- Financial কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লে → Fin Nifty বাড়ে।
- Financial কোম্পানির শেয়ারের দাম কমলে → Fin Nifty কমে।
Fin Nifty বাড়লে কী বোঝায়?
📈 Financial Sector শক্তিশালী।
📈 ব্যাংক, NBFC, Insurance ও Housing Finance কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে।
📈 বাজারে ইতিবাচক মনোভাব (Bullish Sentiment) থাকতে পারে।
Fin Nifty কমলে কী বোঝায়?
📉 Financial Sector দুর্বল।
📉 Financial কোম্পানির শেয়ারে Selling Pressure রয়েছে।
📉 বাজারে নেতিবাচক মনোভাব (Bearish Sentiment) থাকতে পারে।
Fin Nifty বনাম Bank Nifty
|
বিষয় |
Fin Nifty |
Bank Nifty |
|
কোম্পানির সংখ্যা |
২০টি |
১২টি |
|
অন্তর্ভুক্ত সেক্টর |
Banks + NBFC + Insurance + Housing Finance + Financial Services |
শুধুমাত্র Banks |
|
সূচকের ধরন |
Financial Sector Index |
Banking Sector Index |
উদাহরণ
ধরুন:
- গতকাল Fin Nifty = 27,000
- আজ Fin Nifty = 27,350
➡️ অর্থাৎ Fin Nifty 350 পয়েন্ট বেড়েছে, যা নির্দেশ করে Financial Sector-এর শীর্ষ কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম গড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
Global Markets বলতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের Stock Market বা Share Market-কে বোঝায়। এক দেশের অর্থনীতি, রাজনৈতিক ঘটনা, সুদের হার, যুদ্ধ, তেলের দাম বা বড় অর্থনৈতিক খবর অন্য দেশের বাজারকেও প্রভাবিত করতে পারে।
সহজ ভাষায়:
Global Markets হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজারের সমষ্টি।
Global Markets কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের শেয়ার বাজার (NSE/BSE) বিশ্বের অন্যান্য বড় বাজারের সঙ্গে যুক্ত।
যদি:
- 🇺🇸 আমেরিকার বাজার বাড়ে → ভারতের বাজার ইতিবাচকভাবে শুরু হতে পারে।
- 🇺🇸 আমেরিকার বাজার পড়ে যায় → ভারতের বাজারেও Selling Pressure দেখা যেতে পারে।
তবে এটি নিশ্চিত নিয়ম নয়; ভারতের নিজস্ব অর্থনৈতিক খবর, কোম্পানির ফলাফল এবং অন্যান্য কারণও বাজারকে প্রভাবিত করে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ Stock Market Index
🇺🇸 United States (USA)
Dow Jones Industrial Average (DJIA)
- আমেরিকার ৩০টি বড় কোম্পানির Index।
- বিশ্ববাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
NASDAQ Composite
- Technology কোম্পানির জন্য বিখ্যাত।
- Apple, Microsoft, NVIDIA, Amazon-এর মতো কোম্পানি এখানে তালিকাভুক্ত।
S&P 500
- আমেরিকার ৫০০টি বড় কোম্পানির Index।
- অনেক বিনিয়োগকারী এটিকে মার্কিন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখেন।
🇯🇵 Japan
Nikkei 225
- জাপানের 225টি বড় কোম্পানির Index।
🇬🇧 United Kingdom
FTSE 100
- লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের ১০০টি বড় কোম্পানির Index।
🇩🇪 Germany
DAX 40
- জার্মানির ৪০টি বড় কোম্পানির Index।
🇭🇰 Hong Kong
Hang Seng Index
- হংকং-এর প্রধান শেয়ার বাজার সূচক।
Global Markets ভারতের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে?
১. US Market
- Dow Jones, NASDAQ ও S&P 500-এর মুভমেন্ট ভারতের Market Sentiment-কে প্রভাবিত করতে পারে।
২. Gift Nifty
- ভারতের বাজার খোলার আগে Gift Nifty দেখে অনেক ট্রেডার সম্ভাব্য Opening Trend সম্পর্কে ধারণা নেন।
৩. Crude Oil
- তেলের দাম বাড়লে ভারতের অনেক শিল্পের খরচ বাড়তে পারে।
৪. US Dollar (USD)
- ডলারের শক্তিশালী বা দুর্বল হওয়া Import-Export ও বিদেশি বিনিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে।
Global Market-এ নজর রাখার কারণ
- Market Gap Up / Gap Down-এর সম্ভাবনা বোঝা।
- Intraday Trading-এর প্রস্তুতি নেওয়া।
- আন্তর্জাতিক খবরের প্রভাব মূল্যায়ন করা।
- Market Sentiment বুঝতে সাহায্য করে।
উদাহরণ
ধরুন:
- Dow Jones +1.5%
- NASDAQ +2%
পরের দিন ভারতের বাজার Gap Up দিয়ে খুলতে পারে।
আবার,
- Dow Jones –2%
- NASDAQ –3%
তাহলে ভারতের বাজারে Gap Down-এর সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
GIFT Nifty (আগের নাম SGX Nifty) হলো ভারতের National Stock Exchange (NSE)-এর Nifty 50 Index-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ডেরিভেটিভস (Futures) চুক্তি, যা বর্তমানে ভারতের GIFT City, Gujarat-এ অবস্থিত NSE International Exchange (NSE IX)-এ লেনদেন হয়।
আগে এই চুক্তির লেনদেন Singapore Exchange (SGX)-এ হতো, তাই এর নাম ছিল SGX Nifty। ২০২৩ সালে ট্রেডিং ভারতের GIFT City-তে স্থানান্তরিত হওয়ার পর এর নাম পরিবর্তন করে GIFT Nifty রাখা হয়।
GIFT Nifty কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- ভারতীয় শেয়ার বাজার খোলার আগেই Nifty-এর সম্ভাব্য দিক সম্পর্কে ধারণা দেয়।
- বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজারে অংশগ্রহণের জন্য এটি ব্যবহার করেন।
- আন্তর্জাতিক বাজারের মনোভাব (Global Market Sentiment) বোঝাতে সাহায্য করে।
- ট্রেডাররা বাজার খোলার আগে সম্ভাব্য Gap Up বা Gap Down সম্পর্কে ধারণা পান।
উদাহরণ
ধরুন, GIFT Nifty সকালে ১৫০ পয়েন্ট ঊর্ধ্বমুখী ট্রেড করছে। তাহলে অনেক ক্ষেত্রে ধারণা করা হয় যে NSE-তে Nifty 50 ইতিবাচকভাবে (Gap Up) ওপেন করতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত নয়, কারণ বাজারের দিক দেশীয় খবর, অর্থনৈতিক তথ্য এবং বিনিয়োগকারীদের আচরণের ওপরও নির্ভর করে।
সংক্ষেপে: GIFT Nifty হলো Nifty 50-এর একটি আন্তর্জাতিক ফিউচারস চুক্তি, যা ভারতীয় বাজার খোলার আগে সম্ভাব্য বাজারের দিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।
Frequently Asked Questions (FAQs)
1. What is Stock Market Basics to Advanced?
Stock Market Basics to Advanced is a complete learning guide that covers everything from stock market fundamentals to advanced trading concepts, including NSE, BSE, IPO, Technical Analysis, Price Action, Risk Management, and Trading Psychology.
2. What topics are covered in Stock Market Basics to Advanced?
A Stock Market Basics to Advanced course typically covers Stock Market Basics, NSE, BSE, Sensex, Nifty 50, IPO, Demat Account, Technical Analysis, Fundamental Analysis, Price Action, Candlestick Patterns, Chart Patterns, Futures & Options, and Risk Management !!
3. Where can I learn Stock Market Basics to Advanced?
You can learn Stock Market Basics to Advanced through structured courses, educational blogs, books, and practical market analysis. Sunny Bulls Academy provides step-by-step learning to help beginners and traders build a strong foundation in the stock market.
4. How long does it take to complete Stock Market Basics to Advanced?
The time required to complete Stock Market Basics to Advanced depends on your learning pace. Most learners can understand the core concepts within a few weeks through regular study and practice
5. Is Stock Market Basics to Advanced enough to become a successful trader?
No , Stock Market Basics to Advanced provides the knowledge needed to understand the stock market, but becoming a successful trader also requires practice, discipline, risk management, and continuous learning.
6.Why choose Sunny Bulls Academy for Stock Market Basics to Advanced?
Sunny Bulls Academy offers a structured Stock Market Basics to Advanced learning program with practical examples, real market analysis, easy-to-understand lessons, and step-by-step guidance for beginners and experienced traders.
7. Can I learn Stock Market Basics to Advanced without any prior experience?
Yes, Stock Market Basics to Advanced is designed for complete beginners. It starts with basic concepts and gradually covers advanced trading and investing strategies.
8. Who should learn Stock Market Basics to Advanced?
Stock Market Basics to Advanced is ideal for students, working professionals, beginners, investors, traders, and anyone who wants to learn how the stock market works and build wealth through investing.
9. Can I earn money after learning Stock Market Basics to Advanced?
Stock Market Basics to Advanced provides the knowledge and skills needed to participate in the stock market, but profits are never guaranteed. Success depends on experience, discipline, strategy, and risk management.
10. Is Stock Market Basics to Advanced useful for long-term investors?
Absolutely. Stock Market Basics to Advanced teaches both long-term investing and short-term trading, helping investors build diversified portfolios and make informed investment decisions.
Disclaimer
এই ব্লগটি Sunny Bulls Academy-এর পক্ষ থেকে শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও তথ্যভিত্তিক উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। এটি কোনো Buy, Sell বা Investment Advice নয়। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বাজারের ঝুঁকির অধীন। বিনিয়োগের আগে নিজে গবেষণা করুন (DYOR) অথবা SEBI-নিবন্ধিত বিনিয়োগ উপদেষ্টার পরামর্শ নিন। আপনার লাভ বা ক্ষতির জন্য Sunny Bulls Academy দায়ী থাকবে না।

